কৃষি ও বাণিজ্য

তারুণ্যের যাদুকর নুরুল আমীন রাসেল একজন মডেল কৃষক

  প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ১১:২৪:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

কুয়েত প্রবাসী মীর তারেক : দেশের বিভিন্ন এলাকায় একজন মডেল কৃষক একটা প্রজন্মের জন্য হয়ে ওঠেন বদলে দেওয়ার জয়গান। পিরোজপুরেরর মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাঁটিবুনিয়া গ্রামের এমন একজন তরুণ মডেল কৃষক যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন দিনরাত। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে দুর্বার গতিতে যার ছুটে চলা তিনি হলেন উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদ’র সংগ্রামী সভাপতি, দক্ষ, চৌকস, পরিশ্রমী ও অসহায় দুঃখী মানুষের সেবায় নিরলস নিবেদিত মডেল কৃষক নুরুল আমীন রাসেল।
তিনি বলেন, নীতি-আদর্শ না থাকলে কোন রকমের নেতা দাবী কারা উচিৎ না,করলেও তা সাময়িক। অনেক ব্যথা-বেদনা বুকে চেঁপে রেখে নিবেদিত প্রাণ হয়ে চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি কৃষিকর্ম করেছি আমি। জানি না আমার পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাজকে কিছু দিতে পারব কি না। তবে আমি বিশ্বাস করি ভালো কর্মের মাঝে মানুষের ভালবাসা-আস্থা অর্জন করা সম্ভব। এজন্য চাই সবার সহযোগীতা এবং যেন পুরোপুরি আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন ও বিপণন৷ সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।
এই মডেল কৃষক এ বছরে নিজ গ্রাম ঝাঁটিবুনিয়ায় বিষমুক্ত পদ্ধতিতে থাই পেয়ারা, আম্রপালি,মাল্টা,আপেল কুল, চয়না কমলা, ধান এবং শাক-সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা ও তরুণদের উৎসাহ পেয়েছেন। তাঁর সাফল্যের পেছনে নেই কোনো অলৌকিক আলাদিনের চেরাগ। বুদ্ধি আর শ্রমেই গড়েছেন তাদের নিজ সাম্রাজ্য। কিছুটা হলেও পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তবে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষি পরামর্শ ও সহযোগীতা পেলেই তাঁর হাত ধরেই সারা মঠবাড়িয়ায় ফল উৎপাদনে সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠত।
কৃষিকর্মই হোক সবার জীবনের একমাত্র সম্পদ। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য নিজ এলাকায় তারুণ্যের কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে অসহায় মানুষের মুখে হাঁসি ফোটানো। এজন্য প্রয়োজন কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কৃষি চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। এতে করে এলাকার ক্ষুদ্র প্রান্তিক গরীব কৃষকরা উপকৃত হবেন। তবে তাঁর নিজ অভিজ্ঞতা রয়েছে বসত বাড়ির আঙ্গিনায় ছায়াযুক্ত, রৌদ্রজ্জোল, স্যাতস্যাতে ,বাড়ির সীমানা ,পুকুরপাড় ইত্যাদি জায়গায় কিভাবে পরিকল্পনা করে কোন মৌসুমি ফল ও শাকসবজি লাগালে ফলন ভাল হবে। তাঁর দেখা দেখিই ও পরমার্শ নিয়েই এলাকায় আধুুনিক কৃষিকর্মের উপর তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। মডেল কৃষক নুরুল আমীন রাসেল, যার সততার উপলব্ধির বিস্ময়কর চিন্তাধারাই তার মেধা ও প্রতিভার উচ্চকিত ভাবভঙ্গিতে প্রকাশ পায়। তারুণ্যসুলভ আশাবাদী উদ্যমী কর্মবীর তিনি । নিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমবোধের বহু দৃষ্টান্তের উন্মোচন করেন তার আলোচনায়। আস্থা, বিশ্বাস, সততা, নিষ্ঠা, শ্রম, ও ত্যাগ সুখ আর ব্যক্তিত্বের পরিচয়বহন করে চলেছেন আজীবন। ব্যক্তির চেয়ে সমষ্টিকরণই এসব গুনীজনের কর্মের পরিধী ধীরলয়ে বিস্তৃতিলাভ করেছে। সরল, সহজ, সাবলীল ব্যবহার, তার আচার-আচরণে ফুটে ওঠে। এসব কর্মের পরেও তিনি হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারি পেশায় থেকে মানুষের সেবা দিচ্ছেন, ঐ ব্যবসায় রাখেছেন দুঃখী মানুষের জন্য আলাদা সুযোগ সুবিধা। সত্যিই তাঁর এই অসাধারণ কর্মশৈলীতায় সর্বদা মানুষ চিন্তামগ্ন থাকে। লেখাপড়া বিএ এবং ডি এইচ এম এস শেষে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র খুঁজতে গিয়ে অস্তে অস্তে জীবন সংগ্রামে বিভিন্ন পেশার সাথে থেকে কৃষিতেও আত্মনিয়োগ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আর তা আরও তরুণকে এই খাতে আসতে উৎসাহিত করেছে। এমন তারুণ্যের হাত ধরেই যেন শুরু হয়েছে কৃষি বিপ্লব

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ