সম্পাদকীয়

আমার বাবা-মা, ভাই মারা গেছে, আমি মামলাও করতে পারিনি/প্রধানমন্ত্রী

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ১৫ অক্টোবর ২০২০ , ২:৪০:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

               

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার বাবা-মা, ভাই মারা গেছে আমি একটা মামলাও করতে পারিনি। আমার সেই অধিকারটাও ছিল না। এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে যেন আর না থাকে। তাঁর সরকার ক্ষতায় আসতে পেরেছিল বলেই জাতির পিতার খুনী এবং দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ৭০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দেশ স্বাধীন হবার পরই যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ পুণর্গঠনকালে সংস্কারের মাধ্যমে স্বাধীন দেশের উপযোগী সিভিল সার্ভিস গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেয়া জাতির পিতার একটি ভাষণেরও উদ্ধৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতির পিতা তাঁর ভাষণে বলেন, আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনা দেয় ঐ গরীব কৃষক, আপনার মাইনা দেয় ঐ গরীব শ্রমিক, আপনার সংসার চলে ঐ টাকায়, আমি গাড়ি চড়ি ঐ টাকায়, ওদের সম্মান করে কথা বলেন, ওদের ইজ্জত করে কথা বলেন, ওরাই মালিক।

প্রধানমন্ত্রী এই উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, আজকে যারা নবীন কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাঁদের কিন্তু ঐ কথাটাই মনে রাখতে হবে যে, এই দেশের গরিব মানুষ যাঁরা বা এখনও তৃণমূলে যাঁরা পড়ে রয়েছেন তাঁরাই এদেশের মালিক। আর তাঁদের ঘর থেকেই লেখাপড়া শিখে আজকে উঠে এসেছেন। কাজেই, সেদিকে লক্ষ্য রেখে তাঁদের সেবা করাটাই হবে সব থেকে বড় দায়িত্ব।

তিনি জাতির পিতার সিভিল সার্ভিস কমিশন সংস্কার নিয়ে আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রফেসর মোজাফফর আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস রি-অর্গানাইজেশন কমিটি’ ও গঠন করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জাতির পিতা তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকল মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করে প্রত্যেক জেলার জন্য ‘জেলা গভর্নর’ নিযুক্ত করেন। কারণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণই ছিল জাতির পিতার মূল লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না, কোনো শিশুই পথশিশু থাকবে না, প্রত্যেক শিশুরই একটা ঠিকানা হবে এবং লেখাপড়া এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান করে জীবনে যাতে দাঁড়াতে পারে তার ব্যবস্থা আমাদের করে যেতে হবে।

তিনি এ সময় সীমিত ভূখন্ড এবং বিশাল জনসংখ্যার উল্লেখ করে বলেন, সেজন্যই তাঁর সরকারের লক্ষ্য প্রত্যেকটি গ্রামকে সকল ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে শহরে রূপান্তরিত করা।

সারা বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ভিসের অন্তর্ভূক্ত করে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ডিজিটাল পোষ্ট অফিস নির্মাণ করে দেশকে ডিজিটালাইজড করে স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা জনগণের দোড়গোঁড়ায় নিয়ে আসায় তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর সরকারের মানুষের নাগালের মধ্যে কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনকে নিয়ে আসার জন্য এসব পণ্যের ওপর থেকে আমদানী শুল্ক প্রত্যাহার এবং বেসরকারী খাতকে উন্মুক্ত করে দেওয়ারও তথ্য দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সেই চর কুকরি মুকরি থেকে শুরু করে সারা দেশ যেন ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আসতে পারে সে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। কাজেই, দেশ ডিজিটাল হয়েছে বলে যেখানে করোনাভাইরাসের কারণে ঘর থেকেই বের হতে পারছি না সেখানে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কথা বলতে পারছি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরানের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর পরই আমি একটা নির্দেশ দিয়েছিলাম-আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতেই হবে। যে কারণে দেশে কোনো খাদ্য সংকট হয়নি বলেও জানান তিনি।

আরও খবর

Sponsered content

আরও খবর: সম্পাদকীয়

                                   

হলতা নদী রক্ষার্থে কবিতা “হলতা কথন”

                             
                                   

সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় এমআরইউ’র নিন্দা

                             
                                   

ভাষা সৈনিক মহিউদ্দিন আহম্মেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে প্রস্তুতি সম্পন্ন

                             
                                   

একটি বাজ পাখীর মানসিকভাবে ভেংগে পড়া কেন?

                             
                                   

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না”সড়কে মৃত্যু থামবে কবে

                             
                                   

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদের পরিমাণ ৩৯১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

                             
ব্রেকিং নিউজ