সম্পাদকীয়

সংকটময় মুহূর্তে রোগীর বাড়িতে ফ্রী অক্সিজেন পৌঁছে দেন ছাত্রলীগ নেতা শাকিল বাবু

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ১৬ জুলাই ২০২১ , ৬:৪৮:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

               

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় রোগীদের বাড়িতে অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে যান মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক সদস্য ও ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শাকিল বাবু। ২০ বছরের তরুণ মো. শাকিল বাবু করোনা মহামারির এই সময়ে অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন রোগীদের বাড়িতে। এ জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেন না। শাকিল নিজের একটা ফোন পেলে নিজের মোটরসাইকেলে করে অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে ছুটে চলছেন দিন রাত। এই সংকটকালে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া রোগীদের ভরসা এখন শাকিল বাবু। তিনি উপজেলার টিকিকাটা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। শাকিল বাবু মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। গত রোববার রাতে করোনায় আক্রান্ত মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী গ্রামের খাদিজা বেগমের (৬৫) শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। খাদিজা বেগমের স্বজনেরা অক্সিজেনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। পরে এক ব্যক্তি তাঁদের শাকিলের ফোন নম্বর দেন। কল পেয়ে রাত ১০টার দিকে সাত কিলোমিটার দূরে খাদিজা বেগমের বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হন শাকিল বাবু। ওই রাতে খাদিজা বেগমকে অক্সিজেন দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শাকিল বাবু বলেন, পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম পরিচালিত মিরাজুল ইসলাম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন থেকে রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ আগে শাকিল ওই ফাউন্ডেশন থেকে পাঁচটি অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করেন। এরপর শাকিল বাবুর অক্সিজেন প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর মুঠোফোন নম্বর ০১৭১২৫৯৬৫২৫ দিয়ে একটি পোস্ট দেন। তিন দিন আগে পোস্ট দেখে মঠবাড়িয়া পৌরসভার সবুজনগর গ্রামের করোনা রোগী দিলীপ সিকদারের (৬৮) স্বজনেরা শাকিলকে ফোন দেন। তিনি দিলীপ সিকদারের বাড়ি অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে যান। জানতে চাইতে শাকিল বাবু বলেন, ‘করোনা রোগীদের শরীরে হঠাৎ করে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আমি ফোন পেলে রোগীর বাড়িতে অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে চলে যাই। মূলত, রোগীকে হাসপাতাল পর্যন্ত নিতে আমরা অক্সিজেন দিয়ে সহায়তা করি। হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীকে সেখানের অক্সিজেন দেওয়া হয়। গত এক সপ্তাহে অন্তত আটজন রোগীর বাড়িতে অক্সিজেনর সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছি। মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ফেরদৌস ইসলাম বলেন, করোনায় আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ কারণে তাঁদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে জরুরি অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। একজন কলেজছাত্র শাকিল বাবু রোগীদের বাড়িতে গিয়ে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। মানুষের দুঃসময়ে তিনি পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়

আরও খবর

Sponsered content

আরও খবর: সম্পাদকীয়

                                   

হলতা নদী রক্ষার্থে কবিতা “হলতা কথন”

                             
                                   

সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় এমআরইউ’র নিন্দা

                             
                                   

ভাষা সৈনিক মহিউদ্দিন আহম্মেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে প্রস্তুতি সম্পন্ন

                             
                                   

একটি বাজ পাখীর মানসিকভাবে ভেংগে পড়া কেন?

                             
                                   

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না”সড়কে মৃত্যু থামবে কবে

                             
                                   

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদের পরিমাণ ৩৯১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

                             
ব্রেকিং নিউজ