সম্পাদকীয়

অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, সমান্তরালে বাংলাদেশ পুলিশ

  প্রতিনিধি ৮ আগস্ট ২০২১ , ৯:১১:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

মোহাম্মদ ইব্রাহীমঃ মুক্তিকামী বাঙালির দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ, তিতিক্ষার সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা-ধ্যান-জ্ঞান এবং একনিষ্ঠ দৃঢ়তার ফসল আমাদের স্বাধীনতা। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে একটি মাত্র তর্জনীর ইশারায় পাকিস্তান হয় দ্বিখণ্ডিত, আমরা পাই লাল-সবুজের প্রিয় পতাকা।অবশেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, সমস্ত বাধা বিপত্তি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে আবার নতুন করে গঠনে কাজ শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের খাদ্য সংকট, অর্থনৈতিক সমস্যা, অবকাঠামোগত ভঙ্গুরতা ইত্যাদি নানা পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতা অত্যন্ত দৃঢ়তা এবং ধৈর্য সহকারে মোকাবেলা করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথে যাত্রা শুরু করেন। বাঙালির অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। বাংলাদেশের মানুষের অগ্রগতির স্বপ্ন থেমে যায় পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট। সেদিন ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুক। সঙ্গে বাঙালির সকল স্বপ্ন, আশা ও আকাঙ্ক্ষা। তারপর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ২১ বছরের কঠোর সংগ্রাম, ত্যাগ তিতিক্ষার শেষে ১৯৯৬ সালে জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন করে কাজ শুরু করেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার অর্থনীতি, শিক্ষা, খাদ্য, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিগন্তের সূচনা করে যা এ দেশের অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপ্রিয় মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ এর সাথে তুলনা করত। কিন্তু শেখ হাসিনা তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে এই দুর্নামটি দূর করতে সক্ষম হয়েছেন। সাথে বাংলাদেশকে সমালোচকদের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু সেই অগ্রযাত্রা আবার থমকে যায় ২০০১ সালে। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আবার ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয় এবং ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি চতুর্থ মেয়াদে জনগণের রায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃতে গত ১২ বছর অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জনশক্তি রফতানি, শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য সেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যুব, ক্রীড়া, নারী উন্নয়ন, মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদসহ নানা সূচকে গত এক যুগে বাংলাদেশ দারুণ উন্নতি করেছে। খাদ্য-ঘাটতির দেশ থেকে আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে রূপান্তর হয়েছে কৃষির ব্যাপক উন্নয়নের ফলে। শেখ হাসিনার সাহস ও দৃঢ় মনোবলের কারণে আজ আমরা নিজ অর্থায়নে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু করতে পারছি। মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেস সহ বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার যা নগরবাসীকে মুক্তি দেবে যানজটের ধকল থেকে। দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ২০০৯ সালের ২৭টি থেকে গত ১২ বছরে ১১৩ টি বৃদ্ধি করে সর্বমোট ১৪০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ৪,৯৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ (২০০৯) থেকে ২৩,৭৭৭ মেগাওয়াট এ উপনীত করে যা শেখ হাসিনা সরকারের একটি বিস্ময়কর সাফল্য। বিদ্যুতের ঘাটতিকে জয় করেছে বলেই আজ শিল্প ও কৃষির উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কোন স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। গত ১২ বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা, ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং, মোবাইল মানি ট্রান্সফার, অনলাইনে বিমান-ট্রেন-বাস টিকেট, ই-টেন্ডারিং, ই-পাসপোর্ট, ই-শিক্ষা, ই-স্বাস্থ্য, ই-কৃষি, ই-বাণিজ্য, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন, অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স, অনলাইনে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার তথ্য ইত্যাদি নানাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যা অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য সারা বিশ্বে স্বীকৃত। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে, সেইসঙ্গে শিক্ষার্থী ঝরে পড়াও অনেক কমেছে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ