রাজনীতি

টার্গেট ক্ষমতার হিস্যা, জাপার নতুন ছক

  প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২১ , ৭:৫৩:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

উড়িয়া সমাচার ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দল জাতীয় পার্টি (জাপা) আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলকে সংগঠিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে কোন দলের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট হবে তা নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে জাতীয় পার্টিতে। তবে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো শক্তি নেই জাতীয় পার্টির। সে কারণে পছন্দমতো ছক কষতে শুরু করেছেন দলটির নেতারা। তাদের মূল টার্গেট, আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদার হওয়া।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশনা না করার শর্তে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের দল চাঙ্গা রাখতে অনেক চেষ্টা করছেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে সরকারবিরোধী কথা বলে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারপরও সরকার থেকে বের হতে পারছেন না। আগামী নির্বাচনে প্রস্তুতি বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এখনো অনেক সময় আছে। তবে জাতীয় পার্টি বসে নেই ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া চিন্তার পাশাপাশি পর্যাবেক্ষণ করছে রাজনীতি কোন দিকে যায়। তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক রাষ্ট্রক্ষমতার কাম্য হিস্যা আদায়ে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন জাতীয় পার্টির শীর্ষনেতারা।

জাতীয় পার্টির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রধানত দুটি জোটে হবে বলেই এখন পর্যন্ত আস্থাশীল জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। আর এ বিষয়টিকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। যেহেতু বাংলাদেশের চলমান নির্বাচনি ব্যবস্থায় জোট নির্ভরতাই ফ্যাক্টর। সেক্ষেত্রে রাইট ও লেফটবেইজড—দুটো ধারার দলগুলো জোটবদ্ধ হবে। টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকা বর্তমান সরকারের প্রায় তিন বছর শেষ মেয়াদ পার করেছে। আগামী দুই বছর পর জাতীয় নির্বাচন। আর এই সময়টাকে কাজে লাগাতে চায় জাতীয় পার্টি। এ জন্য প্রথমেই দলকে সুসংগঠিত করতে চায়। এরই মধ্যে দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব মেটানোরও উদ্যোগ শুরু হয়েছে। যারা এরই মধ্যে দলছুট হয়েছেন তাদেরকেও দলে টানার পাশাপাশি ক্ষোভ হতাশায় থাকা নেতাদেরও কাছে টানার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলকে চাঙ্গা করতে কো-চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত মহাসচিব পর্যায়ের পৃথক পৃথক বৈঠকসহ তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে বিভাগীয় পর্যায়ে বৈঠক এমনকি সারা দেশে দলের চেয়ারম্যানের সফরসূচি করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। খুব শিগগিরিই এসব পকিল্পনা শুরু করা হবে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মীর আবদুস সবুর আসুদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দেশের মানুষের কাছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির মার্কাকে (লাঙ্গল) আবারও সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা থেকেই সব আসনে প্রার্থী নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি এক, অভিন্ন ও ঐক্যবদ্ধ। ব্যক্তি ক্লিন ইমেজ রয়েছেন তারা। সব মহলে জনপ্রিয়তাও রয়েছে। দলকে চাঙ্গা করতে তিনি এরই মধ্যে ব্যাপক কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন আসনে ক্লিন ইমেজের আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। সামনের নির্বাচন কেমন হবে, কীভাবে হবে, কার সঙ্গে রাজনৈতিক জোট হবে এগুলো পরে ঠিক করা হবে।

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে আবারও যেকোনোভাবে ক্ষমতায় যাওয়াই জাতীয় পার্টির লক্ষ্য। কিন্তু তাদের এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো জনসমর্থন নেই। এ জন্য জোট করা ছাড়া বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বিএনপি এখন পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো শক্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারায় আবারও তারা আওয়ামী লীগের দিকেই হাঁটছে। তবে সব কিছু নির্ভর করবে সামনের দিনগুলোর রাজনীতির ওপর।

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেন, আমরা এখন এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে এ গিয়ে যাচ্ছি। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। জোট করে নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জোটের প্রয়োজন হলে জোট করব, আর না হলে এককভাবেই নির্বাচন করব। তবে এখনই তা বলার সময় আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করছি। এরপর যখন নির্বাচনের সময় চলে আসবে তখন আমরা নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করব। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দলের প্রেসিডিয়ামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবগুলো আসন ধরেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমরা কত আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করব, সেটা ডিপেন্ড করে সামনের নির্বাচন কীভাবে হবে। আমরা কোন পর্যায়ে যাব, কার সঙ্গে জোট করব এসবের ওপর। এগুলো পরে ঠিক করব

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ