সারাদেশ

বিএনপি ঘর গোছাতে ব্যস্ত

  প্রতিনিধি ৩০ আগস্ট ২০২১ , ৪:২৯:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ

সমাচার ডেস্কঃ আগামী নির্বাচন বা মধ্যবর্তী নির্বাচন, যেকোনো বড় ইস্যুতে মাঠে শক্ত অবস্থান নিতে চায় বিএনপি। এজন্য কয়েক মাস থেকে বিএনপি নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে বেশ চড়া সুরে কথা বলছেন। তাদের এই সরকারবিরোধী ভাষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন নিজের ঘর গোছানোর কাজ করছেন জোরেশোরে।

জানা গেছে, এরই মধ্যে বিএনপির জেলাপর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। আবার অঙ্গ ও সহযোগী দলের কমিটি গঠনের কাজও গুছিয়ে আনা হচ্ছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত কমিটিগুলোতে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সাহসী নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি। দলীয় সূত্র জানায়, এবার আগের মতো গৎবাঁধা এবং ডাউস আকৃতির কমিটি থেকে সরে আসছে দল। নগর-মহানগরের নতুন কমিটিগুলোতে সংখ্যার দিক থেকে কোনোভাবেই ৫০ জনের ওপরে উঠছে না। যদিও এর আগের কমিটির কোনো কোনো ইউনিটে ২০০-৩০০ লোকের জায়গা দেওয়া হতো।

সূত্র জানিয়েছে, চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএনপির অঙ্গসংগঠন কৃষক দল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পুনর্গঠনের তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে। কৃষকদলের কেন্দ্রীয় এবং যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। সব কমিটির শীর্ষ পদে সাবেক ছাত্রনেতাদের এনে সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর দলের শক্তি বাড়াতে পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপরই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়। তবে এবার শক্তিশালী সংগঠন গড়তে সুযোগ্যদের নেতৃত্বে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলের দুজন নীতিনির্ধারণী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করেই তারা রাজপথে নামার চিন্তা করছেন। তাই বিএনপি এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠন গোছানোকে। মহানগর কমিটির পর বিএনপি এখন দেশে যেসব জেলায় কমিটিগুলো অকার্যকর, সেগুলোতে নতুন কমিটি নিয়ে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আগামী অক্টোবরের মধ্যে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে চায় বিএনপি। এদিকে গত ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া জেলা কমিটির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দিয়ে এসব তৃণমূল

কমিটি গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়। পুনর্গঠনসহ সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে এরই মধ্যে তিন জেলা শাখার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব সাংগঠনিক জেলার সঙ্গে বৈঠক করবে হাইকমান্ড।

সূত্র জানায়, জেলা কমিটি নিয়ে হতাশ বিএনপি। বিশেষ করে আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বেশি চিন্তিত দলটি। তারা নির্ধারিত সময়ে থানা-উপজেলার সবপর্যায়ের কমিটি দিতে পারেনি। আবার যেসব জেলা তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজে হাত দিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকটির বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ পড়েছে কেন্দ্রে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ বেশ কয়েকটিতে থানা-উপজেলা-পৌরসভার কমিটি গঠনে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে দল পুনর্গঠনের কাজ আমরা সেভাবে করতে পারিনি। তার পরও সীমিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ মহানগর কমিটিগুলো পুনর্গঠনের কাজ চলছে। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ থানা-উপজেলা-ইউনিয়নসহ তৃণমূলের সবপর্যায়ের কমিটি দ্রুত শেষ করতে চাই। এজন্য জেলা নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

সূত্র জানায়, জেলার সাংগঠনিক প্রতিবেদন নেওয়ার জন্য ১৭ আগস্ট থেকে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা, ঢাকা জেলা ও গাজীপুর মহানগর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, থানা-উপজেলা-পৌরসভাসহ সবপর্যায়ের কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব কমিটি ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতাদের দিয়ে করতে হবে। বিশেষ করে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন, দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত, ভালো সংগঠক তাদের দিয়ে কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। যারা এলাকায় থাকেন না, দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নন, তাদের কমিটিতে না রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

বিএনপির অন্য একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৃণমূলকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত দেন। এই কমিটিকে তিন মাসের মেয়াদ দিলেও অনেক জেলা দুই বছরও পার করেছে। হামলা-মামলা, করোনাসহ নানা অজুহাতে কমিটির মেয়াদ বাড়িয়েছে। তার পরও কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে পারেনি। আর যারা কমিটি গঠনের কাজে হাত দিয়েছেন, অনেকের বিরুদ্ধে যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সব বিষয়েই অবগত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত আড়াই বছরে ৩৭টি জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে পেরেছে বিএনপি। এর মধ্যে ৩৩ জেলা কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ পার হলেও এখন পর্যন্ত সবপর্যায়ের কমিটি গঠন করতে পারেনি। উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটি মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু আগেই।

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ