বরিশাল

মঠবাড়িয়ায় চলাচল অযোগ্য বেইলি সেতু দিয়ে যান চলাচল

  প্রতিনিধি ২ সেপ্টেম্বর ২০২১ , ৭:২২:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ মঠবাড়িয়ায় দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ বেইলি সেতুর জরাজীর্ণ অবস্থা। বহু আগেই চলাচল অযোগ্য এসব বেইলি সেতুর অধিকাংশ জোড়াতালি দেয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। দক্ষিণাঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কের ওপর বিভিন্ন ষ্টীলের বেইলী সেতুর পাটাতনে মরিচা ধরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ১২টি রুটে দূরপাল্লার বাস, মালবাহী ট্রাকসহ শতাধিক ভারী যানবাহন চলাচল করায় যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সওজ বিভাগের আওতায় মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কে অন্তত ১০টি এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মঠবাড়িয়া-সাপলেজা সড়কে ৫টি নাজুক বেইলি সেতু রয়েছে। এসব চলাচল অযোগ্য বেইলি সেতু আশি দশকের শেষ ও নব্বই দশকের শুরুতে স্থাপন করা। দক্ষিনাঞ্চলের পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া-বরগুনার পাথরঘাটাগামী সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুগুলো হলো ঝাউতলা বাজার সেতু, দেবীপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন সেতু, সাফা বাজার সেতু, মাঝেরপুল সেতু, বহেরাতলা সেতু, থানাপাড়া সেতু, দফাদার বাড়ি সেতু, মোল্লারহাট সেতু, দক্ষিণ গুলিসাখালী সেতু ও সিএন্ডবি সেতু।
মঠবাড়িয়ার সাপলেজা হয়ে চরদুয়ানী সড়কের (এলজিইডির), মোল্লাবাড়ি সেতু, বিশ্বাস বাড়ি সেতু, সাপলেজা গুচ্ছগ্রাম সেতু, চড়কগাছিয়া সেতু ও দক্ষিণ চড়কগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (বাবু বাজার) সংলগ্ন সেতু।

সওজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৮ মার্চ বরিশালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি সভা হয়। সভায় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বেইলি সেতুগুলো সরিয়ে সেখানে গার্ডার সেতু নির্মাণ করা প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

উপজেলার মোল্লারহাট বাজার সংলগ্ন খালের ওপর বেইলি সেতুটি কয়েক বছর ধরে জারাজীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। সেতুর পাটাতনের প্লেটে রয়েছে অসংখ্য জোড়াতালি। কিছুদিন পরপর সেতুটির পাটাতন ভেঙে যায়। আবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জোড়াতালি দেয়। স্থানীয়রা জানান- সেতুটি নাজুক থাকায় প্রায়ই যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসময় সড়কে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ সেতুর পাটাতনের প্লেট ভেঙে ও ছিদ্র হয়ে গেছে। বহেরাতলা সেতু ও বাজার সেতু পাটাতনের প্লেট ভেঙে যাওয়ার পর জোড়াতালি দিয়ে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এ ছাড়া কাচারিবাড়ি সেতু, গুচ্ছগ্রাম সেতু, চড়কগাছিয়া সেতু, দক্ষিণ চরকগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। সেতুগুলোর পাটাতনের প্লেট ভেঙে গেছে। দক্ষিণ চড়কগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন (বাবুরহাট) সেতুর প্লেটে বড় বড় ছিদ্র হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান সড়কে পাথরঘাটাগামী যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন প্রায়ই ব্রীজের ছিদ্রের মধ্যে চাকা ডুকে দূঘটনার সৃষ্টি হয়।

মঠবাড়িয়ার পরিবহন শ্রমিক মনির হোসেন বলেন, মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কের সকল বেইলি সেতুই জরাজীর্ণ। এ পথে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ ১২ রুটে প্রতিদিন বাস চলাচল করে। এ ছাড়া পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের (বিএফডিসি) মাছবাহী ট্রাকগুলো এ পথে চলাচল করে। সেতুগুলোর স্থানে জরুরি ভিত্তিতে গার্ডার সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। তা না হলে যেকোনো সময় সেতু ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পিরোজপুর সড়ক জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর চলাচল অযোগ্য সেতু দিয়ে চলাচলে ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ইতিমধ্যে ডিপিপি তৈরী করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। একনেকের অনুমোদন পেলে আরসিসি ঢালাই ব্রীজ নির্মান করা হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মোঃ জসিম জানান, ঝূঁকিপূর্ণ সেতুগুলো পরিদর্শন পূর্বক সয়েল টেষ্ট করে প্রস্তাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। করোনার কারনে বর্তমানে এই প্রোজেক্টে বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেলে সেতুগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ