বরিশাল

দুপুরে মুচলেকা, রাতে বাল্যবধূকে বাড়ি নিয়ে গেলেন বর

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ২২ অক্টোবর ২০২১ , ১:৪৮:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

               

স্টাফ রিপোর্টারঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রশাসনের কাছে বর ও কনে মুচলেকা দিয়েও ঠেকানো গেলনা অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে। এত স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের আইনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে ধুম ধাম করে প্রকাশ্যে বিয়ের আয়োজন করেছিলো দুই পরিবার। প্রশাসন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিয়ে অনুষ্ঠানের গেট ভেঙ্গে দিয়ে এ বাল্য বিয়ে পন্ড করে দেন। পরে বর ও কণের পরিবারের কাছ থেকে উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার মুচলেকা গ্রহণ করে ছেড়ে দেয়।

জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ বড়মাছুয়া গ্রামের মো. পারভেজ ইলিয়াসের মেয়ে ও স্থানীয় বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী ইসরাত জাহান মিম (১৩) এর সাথে পশ্চিম রাজপাড়া গ্রামের মো. আবদুল খালেক হাওলাদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন লিমনের (৩০) বৃহস্পতিবার দুপুরে বিয়ের আয়োজন করা হয়। দুপুরে বরের ভগ্নীপতি সেনা সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মেহমান গাড়ী বহর নিয়ে কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়। এসময় বর পক্ষসহ কনের বাড়িতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের লোকসহ তিন শতাধিক লোক বিয়ের আয়োজন শেষে খাওয়াদাওয়া শুরু করে।

বাল্য বিয়ের বিষয়টি পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেনকে মৌখিক ভাবে অবহিত করে।জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. বশির আহমেদ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিকা আক্তারের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও সাংবাদিকরা কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেন।

পরে পুলিশের সহযোগীতায় কনে বাড়ির বিয়ের গেট ভেঙ্গে দেয়া হয়। এসময় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হোসেনের উপস্থিতিতে কণের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত দাম্পত্ত সম্পর্ক স্থাপন করবো না মর্মে বর দেলোয়ার হোসেন লিমন মুচলেকা দেয়। মুচলেকায় বর আরও উল্লেখ করেন, অপ্রাপ্ত বয়সে ওই কিশোরীকে বিয়ে করলে তার বিরুদ্ধে যে কোন আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবো।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের লোকজন কনের বাড়ি থেকে চলে আসার পর ঘটনার দিন (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়) উভয় পক্ষের সম্মতিতে বর কনেকে নিয়ে তার বাড়িতে চলে যায়। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. বশির আহম্মেদ বলেন, মুচলেকা দেয়ার পরও বর ওই কিশোরীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। এবিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ