বাংলাদেশ

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবীতে মাঃসহকারী শিক্ষক সমিতির খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটি গঠন

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ২৭ নভেম্বর ২০২১ , ৬:১৬:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

               

মোঃআসাদুজ্জামান স্টাফ রিপোর্টারঃ এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করার দাবীকে গণদাবীতে রূপ দিতে ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রেলওয়ে স্টেশন খুলনায়”বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি’র খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ২৬/১১/২০২১ইং রোজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ভার্চুয়াল মিটিং এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৬১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি,বিশ্ব ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা,রেলওয়ে স্টেশন,খুলনা এর সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনকে আহবায়ক এবং জেলার কুলটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিরণ্য চন্দ্র মন্ডলকে সদস্য সচিব করে এ কমিটির ঘোষণা করেন।

 ভার্চ্যুয়াল এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃবোরহান উদ্দিন সরকার,সভার প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব এস. এম. হাবিবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন -কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ,যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃআব্দুল হালিম মুরাদ,অর্থ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম,উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন,প্রেসিডিয়াম সদস্য,মোঃআসাদুজ্জামান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ইউনুস শিকদার এবং কুমার মন্ডল সহ খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার সহকারী শিক্ষকমন্ডলী।

কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব এস এম হাবিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন,”এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা আজ প্রতি পদে পদে বঞ্চিত। আজ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈষম্যের সীমা নাই।

১.চাকুরির নিরাপত্তা বলা হয় বদলি ব্যবস্থাকে।

অথচ আজও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্যে বদলি বাস্তবায়ন হয়নি।

২.এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরকে নামমাত্র এক হাজার টাকা (১০০০/-) বাড়িভাড়া দেওয়া হয়।যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

৩.এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চিকিৎসা ভাতা পান মাত্র ৫০০/- ( পাঁচশ টাকা) ৪.আজও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা চালু হয়নি। যা অত্যন্ত অমানবিক। ৫.শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত কোন সুযোগ-সুবিধা না দিয়েই অতিরিক্ত ৪% কর্তন করা হচ্ছে।

৬.অবসরের পরে শিক্ষকদের বেতন থেকে কর্তনকৃত টাকা যা অবসর ও কল্যাণ ট্রাষ্ট নামে পরিচিত। সেই অবসর ও কল্যাণ ট্রাষ্টের টাকা পেতে বিড়ম্বনার শেষ নেই।কোন কোন শিক্ষক আবার সেই টাকা অপ্রাপ্তির বেদনা নিয়েই কবরে চলে যায়।এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অযাচিত হস্তক্ষেপ শিক্ষকদের দূর্দশার মাত্রা সীমাহীন করেছে।এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা এসব অন্যায় অত্যাচার আর মেনে নেবে না।এসব বৈষম্য দূর করার একমাত্র উপায় হল এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ করা।

আমরা বিশ্বাস করি,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মজিব বর্ষকে চিরস্মরণীয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে রাঙিয়ে রাখতে অচিরেই এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ ঘোষণা করবেন। “প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ বোরহান উদ্দীন সরকার বলেন,” এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাই দেশের প্রায় ৯৭% শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন।

একই দেশ, একই বই, একই সিলেবাস, একই শিক্ষাব্যবস্থা। আর সবকিছু একই হওয়া স্বত্তেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা আজ পাহাড় সমান বৈষম্যের শিকার। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমাদেরকে আত্ম-সচেতন হতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায়ে শিক্ষকদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।একতাই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।আজ বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ তাদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে।আসুন,

আমরা সবাই একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের দাবীগুলো সরকারের নিকট উত্থাপন করি।আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে শিক্ষক সমাজ বৈষম্যমুক্ত হবে। বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির পতাকাতলে একত্রিত হয়ে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের লড়াইকে এবং শিক্ষকদের সকল সমস্যার সমাধান জাতীয়করণ আন্দোলনকে বেগবান করার আহবান জানান।

উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালনা আমিনীয়া ফাযিল মাদ্রাসা,কয়রা,খুলনা)র সহকারী শিক্ষক, মোঃহুমায়ুন কবির। সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন ম্যাডাম তার সমাপনী বক্তব্যে খুলনা জেলার সকল সহকারী শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দীন সরকার এর নেতৃত্বে জাতীয়করণের আন্দোলনকে শক্তিশালী করার অনুরোধ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ