কৃষি ও বাণিজ্য

মঠবাড়িয়ায় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া অবৈধ ইটপাঁজা

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ , ৩:৩২:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

               

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর অবৈধ ইটপাঁজার বানিজ্য চালিয়ে পরিবেশ ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। কোন কোন পাঁজার মালিক ১৫ বছর ধরে, কেউ ১০ বছর ধরে আবার কেউ আরেকজনের দেখাদেখি বানিজ্যিক আকারে নতুন চালু করেছে এ ইটপাঁজা।

পিরোজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান,ইটের পাঁজার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোথাও কোন অনুমোদন নেই। সরেজমিনে গেলে ইটপাঁজার মালিকরা বলেন, ইউএনও অফিস থেকে লোক এসেছিল। তারা দেখে গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঊর্মি ভৌমিক বলেন, ইট পাঁজার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

ইতোপূর্বের একজন অভিযোগকারী জানান,আমার বাড়ির পাশে একটি ইটপাঁজার বিরুদ্ধে ইউএনও অফিসে অভিযোগ দিয়েছিলাম।আমি বাড়িতে পৌঁছাতে না পৌছাতেই আমাকে হুমকি দিয়েছে ওই পাঁজার মালিক।আমার যতই ক্ষতি হোক আর জীবনেও অভিযোগ দেব না। ইটপাঁজার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্হানীয় কেউ অভিযোগ দেওয়াতো দূরের কথা পাঁজার বিরুদ্ধে কোন কথাই বলতে পারে না। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্হাপন নিয়ন্ত্রণ আইনের কোথাও উল্লেখ নেই যে, অভিযোগ দিলে ব্যবস্হা নেওয়া হবে। কারন কোন অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের প্রয়োজন নেই।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্হাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লেখ রয়েছে, কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি বা পাহাড় বা টিলা হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাঁচামাল হিসেবে উহা ব্যবহার করিতে পারিবেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরুখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান মেরিন বানিজ্যিকভাবে জনবহুল এলাকায় ইটপাঁজা শুরু করেছেন।

ওই পাঁজার আধা কিলোমিটারের মধ্যেই আরেকটি ইটপাঁজা চালান মিরুখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে আহম্মেদ আলিম। বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড চড়কখালী গ্রামের মোসলেম শরীফের ইটপাঁজার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলারই সাহস পায় না।

মঠবাড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোঃ ফেরদৌস ইসলাম জানান, ইটপাঁজার গ্যাস শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে ফুসফুসের সংক্রমন ঘটায়।শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হয়।পরিবেশ অধিদপ্তর ইটপাঁজার মত ছোটখাট অভিযান পরিচালনা করতে চায় না।এগুলো সাধারণত ইউএনও এবং এসিল্যান্ড ব্যবস্হা নিতে পারেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ আবদুল হালিম জানান,ইটপাঁজা অবৈধ।এর কোন অনুমোদন দেওয়া হয় না।স্হানীয়ভাবে বন্ধ না হলে অভিযান চালানো হবে।ইটপাঁজার মালিক মোসলেম শরীফ ও মেরিন জানান,ইউএনও অফিস থেকে লোক এসেছিল।এ ব্যাপারে তাদের অবগত আছে।

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ