বরিশাল

আজ থেকে মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ১ মার্চ ২০২২ , ৮:২৮:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

               

ইলিশসহ সকল প্রকার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে সরকার দেশের ৬ টি অভয়াশ্রমে প্রতিবছরের মতো এ বছরও আগামীকাল ১ মার্চ থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২ মাস সকল প্রকার মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ভোলার মেঘনার ইলিশা থেকে চর পিয়াল ও তেঁতুলিয়া নদীর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১শত ৯০ কিলোমিটার এলাকার দুইটি অভয়াশ্রমেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

মাছ শিকার থেকে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা মাছ শিকার করবে তাদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করা হবে বিশেষ অভিযান।

অক্টোবরের প্রজনন মৌসূমে ডিম ছাড়ার পর বর্তমান সময়টি ইলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসময় ইলিশ জাটকা থেকে বেড়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। ইলিশের বেড়ে ওঠার পাশা-পাশি অন্যান্য মাছ এসময় নদীতে ডিম ছাড়ে বিধায় ভোলার মেঘনা নদীর ইলিশা থেকে মনপুরার চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এবং তেতুঁলিয়ার ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তমের ১ শত কিলোমিটারসহ মোট ১ শত ৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ১ মার্চ থেকে ইলিশসহ সকল মাছ শিকার বন্ধ থাকবে। জেলেদেরকে এসময় মাছ শিকার থেকে বিরত রাখতে মৎস্য বিভাগ ভোলা জেলার ১শত ৩২ টি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছে বিশেষ প্রচার-প্রচারণা।

জেলেরাও মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত। তবে তাদের দাবি প্রতি বছরই তারা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে কিন্তু প্রভাবশালীরা অবৈধ জাল দিয়ে ইলিশসহ অন্যান্য মাছগুলো নষ্ট করে ফেলে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেদিকে গুরুত্ব দেয় না। জেলেরা বলছেন, এ দু’মাস তাদেরকে খুব কষ্টে থাকতে হয়। ঠিকমতো ঋণের  কিস্তি দিতে পারেন না। অনেকে বিকল্প কাজ যোগার করতে ব্যর্থ হন।  তাদের জন্য প্রনোদনা হিসাবে জন প্রতি ৪০ কেজি করে ৪ মাসের যে চাল বরাদ্দ করা হয় তাও তারা সময় মতো পান না।

ভোলার কাজির হাট ঘাটের জেলে হানিফ মাঝি বলেন, দুই মাসের যে অভিযোগ প্রত্যেক বছরই আমরা মানি। কিন্তু আমাদেরকে যে চাল দেয়ার কথা সেটা আমরা ঠিকমত পাইনা। এই দুই মাসের অভিযানে আমাদের খাওয়া দাওয়া এবং চলতে ফিরতে অনেক কষ্ট হবে।অনেকে আবার দেনার দায়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাবে।

ইলিশা ঘাটের জেলে শামসুদ্দিন মাঝি বলেন,আমাদের অনেক দেনা আছে। বিভিন্ন ধরনের এনজিও থেকে আমাদের লোন আছে, সেখানে আমাদের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। দুই মাসের এই অভিযানে যদি সরকার লোনের কিস্তি বন্ধ না করে তাহলে আমরা কিভাবে মাছ ধরা বন্ধ রাখবো।

নাছির মাঝি ঘাটের জেলে মাইনুল ফরাজি বলেন, প্রত্যেকবারই দুই মাসের অভিযান আমরা মানি কিন্তু ক্ষমতাসীন জেলেরা তো মানে না। প্রশাসন ও তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাদের জন্যই তো অভিযান ব্যর্থ হয়। এছাড়া সরকারের কাছে আমার দাবি, আমাদের জন্য এই নিষিদ্ধ কালীন সময় সরকার যে চাল দেয়ার কথা সেটা যেন আমরা সময়মতো সঠিক ভাবে পাই এবং আমাদের যে এনজিওর লোন আছে সেই কিস্তি গুলো যেন এই দুই মাস বন্ধ রাখে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. আজাহারুল ইসলাম জানিয়েছে, দু’একদিনের মধ্যেই জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পাওয়া যাবে এবং এই চাল দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আইন অমান্যকারী জেলেদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানাসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে।

ভোলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। নিবন্ধনের বাইরেও রয়েছে আরো অন্তত ২ লাখ। জাটকা রক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৯০ হাজার জেলেকে ৪ মাস ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ