সারাদেশ

বরিশালে নগরজুড়ে সয়াবিন তেলের বাজারে হাহাকার

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ৩ মার্চ ২০২২ , ২:২৩:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

               

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল নগরজুড়ে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। অলি-গলির মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি মুদিদোকানে সয়াবিন তেল বেশি দামে বিক্রি হলেও ডিলার পয়েন্ট ও পাইকারীবাজারে কোন সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন না বলে জানিয়েছেন ক্ষুদ্র মুদিদোকানী ও ক্রেতা সাধারণ।

তারা বলছেন, অতি মুনাফার আশায় সয়াবিন তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে সয়াবিন তেল বিক্রি একটি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বিকার করেছেন পাইকারী সয়াবিন তেল ব্যবসায়ীরা।

হঠাৎ নগরীজুড়ে সয়াবিন তেল উধাও হওয়ার ঘটনায় ক্রেতা সাধারনের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। সয়াবিন তেল মজুদকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ।

একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের মূল্যে বৃদ্ধির আশায় মাঝারি-বড় ব্যবসায়ীরা তেল বিক্রি না করে দোকান থেকে অন্যত্র সরিয়ে মজুদ করেছে। যে কারণে ক্রেতারা সয়াবিন তেল কিনতে পারছে না।

শাহ জামাল মাসুদ রানা নামে এক ক্রেতা জানান, বাসায় মেহমান আসায় সকালে সয়াবিন সহ অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতে বের হই। কিন্তু প্রয়োজনীয় সব বাজার করা হলেও হাটখোলার কোন দোকানে সয়াবিন তেল কিনতে পাইনি। তারপর আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে একটি মুদি দোকানে এক লিটারের দুটি সয়াবিন তেলের বোতল দেখতে পাই। কিনতে গেলে দোকানদার বলে তা আগেই বিক্রি করেছেন।

আগরপুর রোডের সুপ্তি জেনারেল স্টোরের প্রোপাইটার মো. নুরুল হক বলেন, গতদুইদিন ধরে পাইকারী বাজার তো দূরের কথা কোন ডিলার থেকেও সয়াবিন তেল কেনা সম্ভব হয়নি। শুধু বলে নাই নাই। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুন। সরকার এখই ব্যবস্থা না নিলে সিন্ডিকেটরা আরো সংকট তৈরি করবে।

বাজার রোডের পাইকারী মুদি দোকানি শামসুর রহমান বলেন, দোকানে কোনো সয়াবিন তেল নেই। কোন সয়াবিন কোম্পানি থেকেই তেল দিচ্ছি না। বলে সাপ্লাই নেই। আমরা কিভাবে বিক্রি করব। যতক্ষণ ছিলো ততক্ষণ বিক্রি করেছি। তিনি কোন সয়াবিন তেল দোকান থেকে সরিয়ে মজুদ করেননি বলেও জানান।

ফ্রেস কোম্পানির বরিশালের এসআর নাজমুল হোসেন বলেন,কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা অনুয়ায়ী সয়াবিন তেল উৎপাদন করছেন। কিন্তু বর্তমানে সয়াবিন তেলের দাম উর্দ্ধমুখি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের চাহিদা বেড়ে কয়েকগুন।

আগে একদোকানে ৫০ লিটার তেলের অর্ডার দিলে এখন চাচ্ছে ২৫০ লিটার। এতে করে ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানি সয়াবিন তেল সরবরাহ করতে পারছে না। তবে আগের মতোই স্বাভাবিক ভাবে ব্যবসায়ীদের কাছে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, গত কয়েক দিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবেই তেলের দাম বাড়ছে। তার ওপর যদি কোনো দোকানি অতিরিক্ত লাভের আশায় সোয়বিন তেল মজুদ করেন তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। বাজার দর স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রশাসন।

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ