রাজশাহী

নওগাঁয় বাঁশের সাঁকোই গ্রামবাসীর ভরসা

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ১৫ মার্চ ২০২২ , ৪:৩৮:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

               

নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আত্রাই নদীর পূর্বপাড়ের মানুষ। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই নদী পারাপারে তাঁদের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয়দের দাবি, প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মিত হলে নদী পারাপারের অপেক্ষায় আর থাকতে হবে না। ঘুরতে হবে না অন্তত তিন কিলোমিটার পথ।মাত্র ২০০ মিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে পৌঁছানো যাবে।

রোগীদের সহজেই নেওয়া যাবে হাসপাতালে। কৃষকদের পণ্য পরিবহণে ভোগান্তি ও ব্যয় দুটোই কমবে। একই সঙ্গে উপজেলার প্রসাদপুর, গনেশপুর, মৈনম, কাঁশোপাড়া ও কশব ইউনিয়নের লোকজন সহজেই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে উপজেলা প্রকৌশল দফতর বলছে, ওই খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য কয়েক দফায় মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্ধারণ ও সেতুর ধরন নিয়ে একাধিক জরিপ কাজ করেছেন এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি দল। খুব শিগগিরই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।

স্থানীয়রা জানান, আত্রাই নদীর প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অফিসগামী লোকজনকে। দেরিতে পারাপারের কারণে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাঁদের। সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত দেড় লাখ মানুষ ।

গাড়ীক্ষেত্র গ্রামের বাচ্চু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন নদী পারাপার হন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ সময় নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পারাপারে সমস্যার কারণে সময়মত গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। রাত ১০ টার পর পারাপার বন্ধ হয়ে গেলে তিন কিলোমিটার ঘুরে পরে গন্তব্যে যেতে হয়।

গোটগাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজামাল হক বলেন, প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে অন্তত ১৫-১৬ হাজার লোক পারাপার হন। ভরা বর্ষায় এক সঙ্গে অতিরিক্ত লোক নৌকার চড়লে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেকে ঝুঁকি এড়াতে নদী পার না হয়ে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করেন।

৭ নম্বর প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, সংকটাপন্ন রোগীদের হাসপাতালে নিতে এ অঞ্চলের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নদী পারাপারের অপেক্ষায় না থেকে শুটকির মোড় থেকে ফেরিঘাট হয়ে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে হাসপাতালে যেতে হয় তাঁদের। দীর্ঘ সময়ের কারণে এসব রোগীদের অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয় না।

চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন মন্ডল আরও বলেন, কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় গণ্য পরিবহণে একইভাবে ভোগান্তির শিকার হন কৃষকরা।

গনেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হলে সাতবাড়িয়া মোড় হয়ে গনেশপুর, মৈনম ও কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের লোকজন মহাসড়ক ব্যবহান না করে তাড়াতাড়ি উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারবেন। দক্ষিণ এলাকার লোকজনও একইভাবে সতিহাটসহ নওগাঁ শহরে যাওয়ার সুবিধা পাবেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী শাইদুর রহমান মিঞা বলেন, বর্তমান সাংসদ তৎকালীন সময়ের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক স্যার প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষ্যে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের একাধিক টিম মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্ধারণসহ সেতুর ধরণ নিয়ে কাজ করেন।

তিনি আরও বলেন, গত বছর উক্ত সেতু নির্মাণ কাজের সমীক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মহোদয় সেতুটির সম্ভাব্যতা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত এর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন।

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ