কৃষি ও বাণিজ্য

৪ লাখ টাকার চিচিঙ্গা বিক্রি করেছেন ভোলার আব্দুল রশিদ

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ১৭ মার্চ ২০২২ , ৫:২৮:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

               

এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভোলার চরাঞ্চলে আগাম চিচিঙ্গার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘রেখা’ বা ‘রেহা’ নামে পরিচিত। রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় চিচিঙ্গা ক্ষেতে বেশি খরচ করতে হয়নি কৃষকদের। বর্তমানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চিচিঙ্গার দামও বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে গত কয়েক বছরের চেয়ে এবছর চিচিঙ্গা চাষ করে ব্যাপক লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চর ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবছরও শীত মৌসুম থেকে ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের আগাম চিচিঙ্গার চাষ করেছেন কৃষকরা।

তবে এবছর মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চিচিঙ্গা ক্ষেতে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ ছিল কম। তাই ক্ষেতে কম সার ও কীটনাশকের ব্যবহৃত হয়েছে। এতে কম খরচে অধিক ফলন পেয়েছেন কৃষকরা।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মদনপুর চরের কৃষক মো. আবুল কামাল জানান, তিনি ২০১৬ সাল থেকে মদনপুর চরে আগাম চিচিঙ্গার চাষ করে আসছেন। এবছরও তিনি ১৬০ শতাংশ জমিতে চিচিঙ্গার চাষ করেছেন।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চর এলাকার কৃষক মো. আব্দুল রশিদ জানান, এবছর তিনি ২ একর জমিতে চিচিঙ্গার চাষ করেছেন। এতে সব খরচ মিলে প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এপর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ টাকার চিচিঙ্গা বাজারে বিক্রি করেছেন। এবং ক্ষেতে এখনও যে ফলন আছে তাকে আরো প্রায় দুই লাখ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মদনপুর চরের আরেক কৃষক মো. ইসরাফিল জানান, এবছর শীত মৌসুমে কুয়াশার পরিমাণ কম ছিলো। অন্যদিকে মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ক্ষেতে রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম ছিল, তাই ক্ষেতে সার ও কীটনাশকের পরিমাণও কম লেগেছে। এ কারণে চলতি বছর আমাদের চিচিঙ্গার চাষে খরচও কম হয়েছে। তবে ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি পেয়েছি।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চর এলাকার আরেক কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর চিচিঙ্গার খুচরা ও পাইকারি বাজারের আগাম চিচিঙ্গার দাম কম ছিলো তাই বেশি লাভবান হতে পারিনি। কিন্তু এবছর পাইকারি বাজারের কেজি প্রতি ৪০ টাকা ও খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ৫০ টাকা দাম রয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় এবছর আগাম চিচিঙ্গা করে সব কৃষকই লাভবান হয়েছেন।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর জানান, চিচিঙ্গা মূলত গ্রীষ্মকালীন সবজি। তবে অনেক বছর ধরে ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আগাম চিচিঙ্গার চাষ হয়ে আসলেও প্রতি বছরই এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের চিচিঙ্গা চাষের জন্য পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ দিয়ে আসছি। এর কারণে ভোলায় চিচিঙ্গা চাষের জমির পরিমাণের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, আগাম ও গ্রীষ্মকালে ভোলার সাত উপজেলায় ১ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে চিচিঙ্গার চাষ হয়েছে। আর হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ১৩ মেট্রিক টন ফলন। তবে এবছর এখন পর্যন্ত ১২০০ হেক্টর জমিতে চিচিঙ্গার চাষ হয়েছে। তবে আবাদের পরিমাণ গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

আরও খবর

Sponsered content

ব্রেকিং নিউজ