সম্পাদকীয়

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না”সড়কে মৃত্যু থামবে কবে

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ৬ এপ্রিল ২০২২ , ১০:৩৭:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ

               

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণ করা যে যাচ্ছে না তা আবারও জানা গেল রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্যে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, সারা দেশে গত মার্চে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৫৮টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা হয়েছে ১৭৬টি। তাতে নিহত হয়েছেন ২২১ জন, যা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৬২ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছে ৭৩ জন, যা মোট মৃত্যুর ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ সময়ে পাঁচটি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছে। ১১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে গড়ে এ সংখ্যা ছিল ১৬ দশমিক ৭৫ জন। এ হিসাবে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে প্রাণহানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছে ৪৬৩ জন, যা মোট মৃত্যুর ৭৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে এসব সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১০ দফা সুপারিশও জানিয়েছে ফাউন্ডেশনটি দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করা, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রেল ও নৌপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমানো, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করা।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে উঠে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। লাগাতার কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা শান্তিপূর্ণ ওই আন্দোলন ঢাকাসহ সারা দেশের রাজপথের চিত্র পাল্টে দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা যে ‘৯ দফা দাবি’ উত্থাপন করেছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে ‘১৭ দফা নির্দেশনা’ দেওয়া হয়েছিল তার প্রায় কোনোটিই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েল হত্যা মামলার রায়ে আদালত যে চারটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল, সেই অনুযায়ীও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যারা অঙ্গীকার করেছিল যে ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে কাজ করবে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে গঠন করা হয়েছে ‘ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন’। কিন্তু তারপরও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ৩২ লাখ রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়ির বিপরীতে অবৈধ চালকের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। দেশের বিভিন্ন সড়কে ২৬০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক আজও সরলীকরণ হয়নি। এআরআইর এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটছে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে। এজন্য কাঠামোগত ত্রুটি দূর করার পাশাপাশি মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং তথ্যসহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম’ নামে যে প্রকল্পের কাজ করছে, তার দ্রুত বাস্তবায়ন সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া সড়ক-মহাসড়ক তৈরির ১০০ বা ২০০ বছরব্যাপী মহাপরিকল্পনা থাকা দরকার; যাতে কেউ সেসব স্থানে আগে থেকে বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করতে না পারে। আবার মাটির রাস্তার পাশেও যেন থাকে প্রশস্ত ফুটপাত। মৃত্যুর মিছিল হ্রাস করতে সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের দৃষ্টান্ত রয়েছে। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা করেছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতিমধ্যে এ কাজে তারা সফল হয়েছে। তাহলে আমরা পারছি না কেন?

আরও খবর

Sponsered content

আরও খবর: সম্পাদকীয়

                                   

সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় এমআরইউ’র নিন্দা

                             
                                   

ভাষা সৈনিক মহিউদ্দিন আহম্মেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে প্রস্তুতি সম্পন্ন

                             
                                   

একটি বাজ পাখীর মানসিকভাবে ভেংগে পড়া কেন?

                             
                                   

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না”সড়কে মৃত্যু থামবে কবে

                             
                                   

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদের পরিমাণ ৩৯১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

                             
                                   

মেলায় মজার শিশুতোষ বই

                             
ব্রেকিং নিউজ