ক্রিকেট

বাংলাদেশকে অসম্মান করা হয়েছিল

                         মঠবাড়িয়া সমাচার ১২ এপ্রিল ২০২২ , ৪:৩৫:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

               

এখন থেকে ঠিক ২১ বছর আগের ঘটনা। তখন টেস্ট ক্রিকেটে মাত্রই পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ২০০০ সালের নভেম্বরে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ঠিক পরের বছর জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান সফর শেষে শ্রীলংকা সফরে যায় নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মুত্তিয়া মুরালিধরনের স্পিন আর চামিন্দা ভাসের গতির মুখে পড়ে ৩৬.৪ ওভারে ৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মারভান আতাপাত্তুর (২০১) ডাবল আর মাহেলা জয়া বর্ধনের (১৫০) সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৫৫৫ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলংকা। আতাপাত্তু ও জয়াবর্ধনে স্বেচ্ছায় আউট হয়ে ফেরেন। যাকে ক্রিকেটীয় ভাষায় রিটায়ার্ড আউট বলা হয়।

আতাপাত্তু ও জয়াবর্ধনের এমন সিদ্ধান্তে নবাগত বাংলাদেশকে অসম্মান করা হয়েছে বলে খুব চাউর হয়। যে কারণে শ্রীলংকা ক্রিকেট দলকে ক্ষমাও চাইতে হয়। জয়াবর্ধনেরা বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত বলে সাফাই দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ আশরাফুলের (১১৪) সেঞ্চুরিতে ৩২৮ রান করার পরও বাংলাদেশ হারে ইনিংস ও ১৩৭ রানে।

রিটায়ার্ড আউটে আইসিসির নিয়ম হলো-কোন ব্যাটসম্যান ম্যাচের মাঝে ডেড-বল পরিস্থিতিতে আম্পায়ারকে জানিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেন। অর্থাৎ স্বেচ্ছায় নিজেকে আউট ঘোষণা করার অধিকার রয়েছে ব্যাটসম্যানের।

রিটায়ার্ড হার্ট ও রিটায়ার্ড আউটের মধ্যে পার্থক্য হলো-কোন ব্যাটসম্যান চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে সেক্ষেত্রে তাকে রিটায়ার্ড হার্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাটসম্যান সেক্ষেত্রে নট-আউট থাকেন। তিনি পরে পুনরায় ব্যাট করতে নামতে পারেন। যদি নতুন করে ব্যাট করতে নাও নামেন, তবে তাকে নট-আউট ধরা হয়।

কিন্তু ব্যাটসম্যান স্বেচ্ছায় মাঠ ছাড়লে রিটায়ার্ড আউট বলে ধরে নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার আর ব্যাট হাতে মাঠে ফিরতে পারবেন না। ২১ বছর পর সেই ঘটনা সামনে আসার মূল কারণ হলো আইপিএলের চলতি আসরের ২০তম ম্যাচে গত রোববার লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে রাজস্থান রয়েলসের অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন রিটায়ার্ড আউট হন। অশ্বিনের স্বেচ্ছায় আউট হওয়ার পরই রিটায়ার্ড আউট নিয়ে নতুন করে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়।

আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সচরাচর রিটায়ার্ড আউট দেখা যায় না। তাই এ নিয়ম নিয়ে অনেকই ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। আইপিএলে এই প্রথম দেখা যায় রিটায়ার্ড আউটের ঘটনা। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এটা দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সানজামুল ইসলাম রিটায়ার্ড আউট হয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০১ সালে কলম্বোয় শ্রীলংকা বনাম বাংলাদেশ ম্যাচে মাহেলা জয়াবর্ধনে ১৫০ রানে পৌঁছার পর এবং মার্ভান আতাপত্তু ২০০ রানে পৌঁছার পর রিটায়ার্ড আউট হয়েছিলেন।

এছাড়া ২০১৯ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে মালদ্বীপের বিপক্ষে ভুটানের সোমন টোবগে ৩৫ বলে ২৪ রানে ব্যাট করার সময় রিটায়ার্ড আউট হয়েছিলেন।

ব্রেকিং নিউজ